চট্টগ্রামে পাহাড় দখলের ‘আগুন-পানি’ কৌশল

দিন-দুপুরে পাহাড় কাটতে ঝুঁকি বেশি। তাই অভিনব এক পদ্ধতি বের করেছে দখলদাররা। প্রথমে পেট্রোল ঢেলে পাহাড়ের গাছপালা পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাগান করার কথা বলে এর পর মাটিতে আটকে থাকা পোড়া গাছের শিকড় উপড়ে ফেলছে। এমনভাবে এটি করা হচ্ছে, যাতে বৃষ্টি এলেই ন্যাড়া করা সেই পাহাড়ে নামে ধস। এর পর শ্রমিক লাগিয়ে রাতের আঁধারে সরিয়ে নেওয়া হবে মাটি। এতে বর্ষার শুরুতেই এর সুফল পায় দখলদাররা। পাহাড়ে আগুন লাগার বেশ কয়েকটি ঘটনার নেপথ্যে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে এসব তথ্য। ভয়াবহ এ ঘটনায় পাওয়া গেছে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার যোগসাজশের প্রমাণও।
গত বছর জঙ্গল সলিমপুরে কয়েকটি পাহাড়ে খণ্ড খণ্ডভাবে আগুন লাগে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে এমন আগুন লাগার ঘটনা ঘটে পশ্চিম খুলশীতে নীলাচল হাউজিংয়ের পাশের এক পাহাড়ে। এখানে ছিল ৩৩ কেভির বিদ্যুৎ সঞ্চালনের একটি টাওয়ার। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনলে ঘটত ভয়াবহ বিপদ।
অভিযানে থাকা কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগিয়ে পাহাড় দখল করার এ অপকৌশলটি নতুন। পাহাড়ে পরপর বেশ কয়েকটি আগুন লাগার ঘটনার পর নেপথ্যে এমন কারণই পেয়েছি আমরা। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা আবাসিকে বিদ্যুৎ যাওয়া, রাস্তা হওয়া ও ভবন তৈরির অনুমোদন পাওয়ার ঘটনায়ও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
আগুন লাগায় কারা :জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা এসএম শাহআলম জানান, আশপাশের পাহাড় যার দখলে আছে তারাই নতুন পাহাড়ে আগুন দেয়। পুরো পাহাড়ে একসঙ্গে আগুন লাগানো হয় না। পেট্রোল ঢেলে খণ্ড খণ্ডভাবে লাগানো হয় আগুন। সবজি চাষ কিংবা নতুন গাছ রোপণ করার অজুহাতে পরে তুলে ফেলা হয় পোড়া গাছের শিকড়। নীলাচল হাউজিংয়ের পাশের পাহাড়ে আগুন লাগানো হয় প্রথমে উত্তর পাশে। পরে এটি বিস্তৃত আরও ৫ থেকে ৬ স্পটে। তিনি জানান, পাহাড় কেটে নীলাচল হাউজিং গড়ে তুলেছে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট। কিন্তু এখন এই আবাসিকে একচ্ছত্র আধিপত্য খাটায় পাঁচজন। এদের কথাই এখানে আইন। আবদুর রশিদের ছেলে ফয়েজ আহমদ, আশরাফ মিয়ার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল আজিজের ছেলে সফিয়র রহমান, আবু মিয়া সওদাগরের ছেলে ওমর আলী, জাগির মিয়ার ছেলে আহমদ কবিরই এখন নিয়ন্ত্রণ করছে এই আবাসিক। মদিন উল্লাহ চৌধুরীর ছেলে মোরশেদ আলম চৌধুরী ও প্রমোদ রঞ্জন দত্তের মেয়ে সবিতা দত্তও আছে নীলাচল হাউজিংয়ের সঙ্গে। কিন্তু এ দু’জন থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নিমূলে পাঁচজনের ওই সিন্ডিকেট মালিকানা নিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। সম্প্রতি পাহাড়ে আগুন লাগানোর পেছনেও পাঁচজনের মদদ আছে বলে ধারণা করছে ভূমি অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর। ২০১৮ সালে পাহাড় কাটার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর যে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, তাদের মধ্যেও আসামি হিসেবে আছে এই পাঁচজন।
আগুন লাগল থানার দুই কিলোমিটারের মধ্যেই

Somokal

Leave a Reply

Close Menu